অর্ধেকে নেমেছে ভোমরা বন্দরের ফল আমদানি

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে বছরের মোট রাজস্ব আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে বিভিন্ন প্রকার ফল আমদানি থেকে। কিন্তু চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে ফল আমদানি কমেছে অন্তত ৫০ শতাংশ। এতে পণ্যটি আমদানির পাশাপাশি রাজস্বের পরিমাণও কমে গেছে ব্যাপক হারে। গেল অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ফল আমদানিতে রাজস্ব কমেছে ৪৩ কোটি টাকারও বেশি।

এদিকে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের অন্যান্য বন্দরে ফল আমদানিতে যে সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয় তার কিছুই পান না ভোমরা বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা। যে কারণে তারা ভোমরা বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্য বন্দর দিয়ে ফল আমদানি করছেন।

চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে এ বন্দরে বিভিন্ন প্রকার ফল আমদানি হয়েছে ১৯ হাজার ৩৯৭ টন, যা থেকে সরকারের রাজস্ব অর্জিত হয়েছে ৬৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। তবে তা গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসের তুলনায় ৫০ শতাংশ কম বলে জানান বন্দরসংশ্লিষ্টরা।

ভোমরা শুল্কস্টেশনের রাজস্ব শাখা থেকে জানা গেছে, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম চার মাস অর্থাৎ জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে বিভিন্ন প্রকার ফল আমদানি হয়েছে ১৯ হাজার ৩৯৭ টন। সূত্রটি আরো জানায়, আমদানীকৃত এসব ফল থেকে সরকারের রাজস্ব এসেছে ৬৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে বিভিন্ন প্রকার ফল আমদানি হয়েছিল ৩৮ হাজার ৩৫৩ টন, যা থেকে রাজস্ব আসে ১১১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে প্রথম চার মাসে ফল আমদানি ও রাজস্ব উভয়ই কমেছে। তার মানে, অর্থবছর শেষে সরকার বড় অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে।

ভোমরা বন্দরে ফল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রোহিত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী জানান, অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি ফল কমবেশি আমদানি করে থাকে তার প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু সম্প্রতি তার প্রতিষ্ঠানে ফল আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যেহেতু ফল একটি পচনশীল পণ্য, তাই এটি আমদানি ও পরিবহন করতে গেলে প্রচুর পরিমাণ নষ্ট হয়ে হয়ে যায়। দেশের অন্যান্য বন্দরে ফল বা অন্য পচনশীল পণ্য আমদানি করলে কিছুটা ছাড় দেয়া হয় ডিউটিতে। কিন্তু ভোমরা বন্দরে ফলের ট্রাকে এক কেজি পরিমাণও ছাড় নেই। ফলে যেসব ব্যবসায়ী এজেন্টের মাধ্যমে ফল আমদানি করতেন তারা এখন অন্য বন্দর দিয়ে আমদানি করছেন।

ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানান, আমাদের পার্শ্ববর্তী বেনাপোল বন্দরে এক ট্রাক ফল আমদানি করলে পচনশীল পণ্য হিসেবে পাঁচ টনের ডিউটি নেয়া হয় না। কিন্তু ভোমরা বন্দরে ফল আমদানিতে কোনো ছাড় দেয়া হয় না। যে কারণে ব্যবসায়ীরা ভোমরা বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্য বন্দর দিয়ে ফল আমদানি করছেন।

তিনি আরো বলেন, দেশের অন্যান্য বন্দরে ফল আমদানির ওপর যে সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয় তা যদি ভোমরা বন্দরের ব্যবসায়ীদের দেয়া হতো, তবে পণ্যটির আমদানি যেমন বাড়ত, তেমনি সরকারের রাজস্বও অনেকাংশে বেড়ে যেত। কিন্তু ভোমরা বন্দরে সব সময় পণ্য আমদানিতে বৈষম্য করা হয়ে থাকে।

ভোমরা শুল্কস্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার আমীর মামুন বলেন, সরকারের নির্দেশ ও স্বচ্ছতা বজায় রেখে এখানকার দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অবৈধ সুযোগ-সুবিধা কেউ যাতে না নিতে পারে, সে বিষয়ে নজরদারি রাখা হয়েছে। তাছাড়া ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে ভোমরা বন্দর খুবই সম্ভাবনাময়। এখান থেকে পণ্য আমদানি-রফতানি করা যত সহজ, অন্য বন্দরে তা হয় না। ভোমরা থেকে কলকাতায় পণ্য আনা-নেয়া অন্য বন্দরের তুলনায় সহজ। যোগাযোগ ব্যবস্থা যথেষ্ট ভালো। পণ্য বা যানজট থাকে না। ফলে ব্যবসায়ীরা দ্রুত পণ্য পরিবহন করতে পারছেন।

আগামীতে ভোমরা বন্দর আরো সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে বলে আশাবাদী এ কাস্টমস কর্মকর্তা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here