যশোরে আমের ব্যাপক ফলন, যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়

স্টাফ রিপোর্টার : চলতি বছরে দেশের অন্য এলাকার মতো যশোরেও আমের ব্যাপক ফলন হয়েছে। গত ১৫ মে থেকে আম পাড়া শুরুর পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহৎ আমের মোকাম যশোরের শার্শা উপজেলার ‘বেলতলা বাগুড়ী আম মোকাম’ জমে উঠেছে। আশেপাশের জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা আম কিনে এ মোকামে জমা করেন। এখান থেকে প্রতিদিনি প্রায় ১০০ মেট্রিক টন আম যাচ্ছে রাজধানী, চট্টগ্রাম ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে।

হিমসাগর, গোপালভোগসহ বিভিন্ন প্রজাতির আমে জমজমাট হয়ে উঠেছে এখানকার আমের মোকাম। এবার বেশি লাভের আশা করেছেন আমচাষিরা।

জানা যায়, যশোরের শার্শা, ঝিকরগাছা ও পার্শ্ববর্তী সাতক্ষীরার কলারোয়া থেকে বেলতলা বাগুড়ী বাজার আমের আড়তে আম নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। এ বাজারে প্রতিদিন ওইসব উপজেলা থেকে আসছে মোহনভোগ, হিমসাগর, গোপালভোগসহ নানা প্রজাতির আম।

কয়েক বছর ধরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহৎ আমের মোকামে পরিণত হয়েছে বাজারটি। চাষিরা বেশি লাভের আশায় আগাম আম এনে বাজারে বিক্রি করছেন। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন আম ব্যবসায়ীরা। বেলতলার অর্ধশত আমের আড়ত থেকে আম কিনছেন তারা। ১৮০০ থেকে ৩২০০ টাকা মণ দরে এসব আম কিনছেন তারা।

ঢাকা ও কুষ্টিয়া থেকে আসা আম ব্যবসায়ী ফরিদ গাজী ও আরমান মোল্লা জানান, এ হাটে আমের মজুত বেশি থাকে। যে কারণে দামও কম। তিনি জানান, প্রতিদিন ৩০০ ক্যারেট আম কিনছেন। এসব আম ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠানো হয়।

আড়ত ব্যবসায়ী বাবলু হোসেন ও আকবর আলী জানান, প্রচুর আম আমদানি হচ্ছে এখানে। জমজমাট বেচাকেনাও হচ্ছে। বাগুড়ীর আম দেশের বিভিন্ন শহরে ও দেশের বাইরেও রফতানি হচ্ছে। আমের মান ভালো হওয়ায় চাহিদাও ভালো।

জামতলা গ্রামের আমচাষি কালামুল বলেন, তিনি চার বিঘা জমিতে আম চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। তিন লাখ টাকার আম বিক্রির আশা করছেন তিনি। এবার আমের ফলন ভালো হয়েছে বলে জানান চাষি মলম আলী ও আব্বাস আলী।

বাজার কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন প্রায় ২০০ টন আম বেচাকেনা হচ্ছে। আমের গুণগত মান ঠিক রাখতে তিনি কমিটির সদস্যদের নিয়ে তদারকি করছেন। এবার আমে ফরমালিন রোধে গণসচেতনতাসহ প্রচার চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন।

বাগআঁচড়া পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ সুকদেব বলেন, আমবাগান নজরদারিতে রেখেছে প্রশাসন। আমে যাতে কেউ কেমিক্যাল মেশাতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনসহ সজাগ রয়েছে পুলিশ বাহিনী।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল বলেন, উপজেলায় চলতি মৌসুমে টার্গেট অতিরিক্ত আম চাষ হয়েছে। ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় খুশি চাষি। আমের ভালো হারবেস্টের জন্য চাষিদের পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা দিচ্ছে কৃষি অধিদফতর। আমের বাজারগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here