মূল্যস্ফীতি কমেছে গত বছরে

ডেক্স রিপোর্ট: নির্বাচনের মাসে দুধ-চিনিসহ খাদ্যপণ্যের দাম না বাড়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়েনি। বরং নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে সাধারণ মূল্যস্ফীতি পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে ৫ দশমিক ৩৭ থেকে কমে হয়েছে ৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আর ২০১৮ সালে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশে, যা  ২০১৭ সালে ছিল ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গতকাল এসব তথ্য জানান। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ডিসেম্বরের ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মূল্যস্ফীতি ও নির্বাচন-পরবর্তী নানা বিষয়ে কথা বলেন।

২০১৮ সালে সার্বিকভাবে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে গড় সাধারণ মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৫৫, যা ২০১৭ সালে ছিল ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। যদিও মূল্যস্ফীতির হার গত তিন অর্থবছরে আরো বেশি ছিল। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৯২, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ছিল ৫ দশমিক ৪৪ ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। বিশ্ববাজার পরিস্থিতি আমাদের আরো স্বস্তি দিচ্ছে। সামনের দিনে মূল্যস্ফীতি আরো কমে আসতে পারে। নির্বাচনের কারণে আশঙ্কা ছিল, ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, কিন্তু বাড়েনি। নির্বাচনে দুধ ও চিনির প্রয়োজনীয়তাই সবচেয়ে বেশি হয়। কিন্তু এ সময় এ দুটির দাম ছিল যেকোনো সময়ের তুলনায় কম। তাছাড়া তেলের দামও নিম্নমুখী ছিল।

মন্ত্রী বলেন, যে উন্নয়ন প্রকল্প আমাদের হাতে রয়েছে, এ সরকার পরিবর্তন হলে প্রকল্পগুলো আর বাস্তবায়ন হবে না। অতীত অবস্থা থেকে এটা আমরা বুঝতে পারি। দেশের মানুষ আমাদের আরেকবার সুযোগ দিয়েছে সেবা করার। আমরা সুযোগ পেলাম চলমান প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য। আমি আপনাদের সামনে রেখে বলতে পারি, প্রধানমন্ত্রী কখনো ব্যর্থ হননি, এবারো তিনি ব্যর্থ হবেন না। যত বড় প্রত্যাশার লেভেলই দেশের মানুষের হোক, তিনি সেই প্রত্যাশার লেভেল স্পর্শ করবেন। তার হাত ধরে আমরা আগামী পাঁচ বছরে এতটাই সফল হব, যা এ দেশের মানুষ কল্পনা করেনি।

বিবিএসের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পরিধেয় বস্ত্রাদি, বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন, শিক্ষা উপকরণ, বিবিধ দ্রব্যাদি উপখাতে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে চাল, ডাল, শাকসবজি ও মসলার দাম কমেছে।

শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি পয়েন্ট টু পয়েন্ট হারে ৬ দশমিক ২১ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশে ও খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৩২ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ২৭ শতাংশে। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক শূন্য ৯ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৯৯ শতাংশে।

গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি পয়েন্ট টু পয়েন্ট হারে ৪ দশমিক ৯১ ও খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশই রয়ে গেছে। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক শূন্য ৬ থেকে কমে ৫ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here