পতন থামাতে কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ বৃদ্ধি ও সরকারের নীতিগত সমার্থন প্রয়োজন

স্টাফ রিপোর্টার: পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জায়গা। একে বিনিয়োগের বা সঞ্চয়ের টুল হিসেবে ব্যবহার করা উচিৎ। পুঁজিবাজার এমন কোন জায়গা নয় যে দ্রুত হারিয়ে যাবে, তাই দ্রুত বিনিয়োগ করে উঠিয়ে নিতে হবে। তেমন ভাবার কোন কারণ নাই। বরং স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ (মূলত ট্রেডিং) পুঁজিবাজার এবং বিনিয়োগকারী উভয়ের  স্থিতিশীলতার (লাভবান হওয়ার) পথে প্রধান অন্তরায়।

বর্তমান এ বাজারের অস্থিতিশীলতার নেপথ্যে তারল্য সংকট ও আস্থার সংকট প্রধান। বিনিয়োগকারীদের (ট্রেডােরদের) স্বল্প মেয়াদী ট্রেডিং প্রবণতা এ সমস্যাকে বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে। পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতায় মার্কেট ট্রেডিং বেইস নয় বরং ইনভেস্টমেন্ট বেইস হতে হবে।

দেখা যায়, টানা দরপতনের পর বাজার রিভার্জ (আপট্রেন্ড) হলেই বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগ করে। তবে বাজারে আস্থা না পেয়ে, স্বল্প সময়ে ট্রেডিং মানুষিকতায় খুবই অল্প লাভে শেয়ার সেল করছে। কোম্পানির ভ্যালু বা ফান্ডামেন্টাল বিবেচনায় রাখছে না বা আস্থা পাচ্ছেন না। অধিকাংশ  বিনিয়োগকারী ট্রেডিং বিশ্বাস করে এবং তারা লভ্যাংশকে কম পাত্তা দেয়।

তাদের এই ট্রেডিং বাজারের কোনো কাজে আসছে না। বরং বাজারের স্থিতিশীলতা পথে অন্যতম অন্তরায়। ডে ট্রেডিংয়ে সবচাইতে বেশী লাভবান হয় হাউজ মালিক কমিশনের জন্য। বছর শেষে অধিকাংশ ট্রেডারদের তেমন ভাল থাকে না। যদিও কিছু লাভ থাকে সেটা অপারচুনিটি কস্ট হিসেব করলে লস। যেমন ডে ট্রেডিংয়ে সারা বছর অাপনাকে সময় দিতে হবে কিন্তু এই সময়টা অন্য কোন জায়গায় দিলে এই ডে  ট্রেডিং থেকে বেশি লাভ হতো। সে ক্ষেত্রে সারা বছর সময় দিতে হতো না।

অার ডে ট্রেডিংয়ের উচ্চ ঝুঁকি নিতে হতো না। ডে ট্রেডিংয়ের মানুষিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পেতে পারে, যা আপনাকে শারীরিক ও মানুষিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এর কস্টও হিসেব করে দেখা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বিনিয়োগকারী আল আমীন মনে করেন, ডে ট্রেডিং দক্ষ না হলে পুঁজি হারানোর ঝুঁকি বেশি।  আগে ডে ট্রেডিংয়ের দক্ষ হতে আগে টেকনিক্যাল এনালাইসিস, ট্রেন্ড, মোভিং এ্যাভারেজ, সাপোর্ট, রেজিসটেন্স, ভলিউম এনালাইসিস জেনে-বুঝে করা উচিৎ। নতুবা ডে ট্রেডিং করলে লসই হবে। ডে ট্রেডিং থেকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োেই বরং ভাল। এতে একদিকে ঝামেলাহীনভাবে নিজে লাভবান হওয়া যায় অন্যদিকে শেয়ারবাজারেও দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হয়।

শেয়ারবাজারে উত্থান-পতন আছে,থাকবে। প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে চাহিদা-জোগানের( ডিমান্ড- সাপলাইয়ের) মাধ্যমে দাম পরিবর্তন হয়। বিনিয়োগকারীদেরকে বিনিয়োগের পূর্বে অনেক সতর্কতার সঙ্গে বিনিয়োগ করতে হবে। বিনিয়োগের পূর্বে ঠিক করতে হবে আপনি কোন ধরনের বিনিয়োগকারী।

সেভাবেই আপনা পলিসি ঠিক করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীকে বিনিয়োগের পূর্বে, কোম্পানির EPS, NAV, P/E কোম্পানির অতীত ট্রেক রেকর্ড এবং ভবিষ্যতে কোম্পানির গ্রোথ আছে কিনা, ডিভিডেন্ড পে-অাউট রেশিও (মানে ইপিএসের কত শতাংশ ডিভিডেন্ড আকারে বিনিয়োগকারীদেরকেদিচ্ছে) অতীতে কেমন ছিল, বাজারে অন্যান্য শেয়ারের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে বর্তমানে শেয়ারটির বাজারদর যুক্তিযুক্ত কিনা সেটা বিবেচনায় নিয়ে (আন্ডারভ্যালুড দরে) শেয়ার ক্রয় করতে হবে।

বিনিয়োগকারী আবু হাসান মনে করেন, সুযোগ থাকলে  বিনিয়োগকারীরা স্বল্পমেয়াদে মুনাফা তুলে নিবে। ডাইন্ডট্রেন্ড মার্কেটে অল্প মুনাফা পেয়ে বিনিয়োগকারীরা ট্রেডিং বেস বিনিয়োগে করছে। ইনভেস্ট বেস (দীর্ঘমেয়াদি) বিনিয়োগে আস্থা নাই তাই ট্রেডিং করছে। কিন্তু বাজারের স্থায়ী স্থিতিশীলতার জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা বাড়াতে কোম্পানির পারফরম্যান্স বাড়াতে হবে, লভ্যাংশ লুক্রেটিভ (আকর্ষণীয়) হতে হবে, একই সাথে সরকারের নীতিগত সার্পোট প্রয়োজন।

সরকারের নীতিগত সার্পোট প্রয়োজন বলতে ভাল কোম্পানি পুঁজিবাজার তালিকাভূক্তিু, মুদ্রনীতিতে সার্পোট, কর্পোরেট-ট্যাক্স কমান, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশের উপর ট্যাক্স কমপক্ষে পঞ্চশ হাজার টাকা পর্যন্ত মওকুফ করা, ইনসাইডারট্রেডিং বন্ধ করা নানাবিধ ইতিবাচক কর্মকান্ডকে বুঝান হয়েছে।

অারোও পড়ুন:

ডে ট্রেডিংয়ের মজা ও ঝুঁকি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here