ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বাস্তব দুর্বলতা

ইমরান হোসেন:  ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কিছু বাস্তব দুর্বলতা রয়েছে। যেমন বাজারে প্রভাব বিস্তার করার মত বড় পুঁজির অভাব। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মত সংঘবদ্ধ হতে না পারা, গ্যাম্বেলারদের ফাঁদে পড়ে বাড়তি দামে শেয়ার কেনা। বাড়তি দামে শেয়ার কিনেই অধিকাংশ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী আরও ক্ষুদ্র হয়। ভাল কোম্পানিতে বিনিয়োগ দীর্ঘদিন ফেলে রাখতে না পারা। সঠিক সময়ে তথ্য না পাওয়া।

এছাড়াও সঠিকভাবে ফান্ডামেন্টাল, টেকনিক্যাল এবং সেন্টিমেন্টাল ইস্যূগুলো না বুঝা বা বুঝলেও সঠিকভাবে প্রয়োগ না করতে পারা এবং পুঁজিবাজারের চরিত্র সঠিকভাবে না বুঝে শেয়ার বাই-সেলে ইমশোনাল হওয়া,অল্পতেই পেনিকড হয়ে পড়া।

ফলে পুঁজিবাজারে, মাঝে-মধ্যে লাভের মুখ দেখলেও ক্ষতির সম্মুখিন সব সময়ই ক্ষুদ্ররা। গ্যাম্বেলারদের  সৃষ্ট  কৃত্রিম পতনে পেনিকড এবং কৃত্রিম দাম বৃদ্ধিতে আশান্বিত হয়ে বাড়তি দামে শেয়ার ক্রয় ক্ষতি গ্রস্থ হয়।

অভিজ্ঞ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা সরাসরি না পারলে মুনাফা করেন অন্যভাবে। তাদের লক্ষ্য শুধু ক্যাপিটাল গেইন নয় বরং ভাল কোম্পানিগুলো দেয়া ক্যাশ বা স্টক। খারাপ মার্কেটে যখন ক্যাপিটাল গেইন (লাভ) করা কষ্টসাধ্য তখন মুনাফার বিকল্প উপায় ডিভিডেন্ড।

উক্ত দুর্বলতাগুলো যতোটা সম্ভব কাটিয়ে উঠার সাথে সাথে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রাথমিকভাবে  কিছু করণীয় কাজ-

  • শুধুমাত্র নিজের সঞ্চয় করা পুঁজি বিনিয়োগ করুন। কোন ভাবেই ঋণের টাকা কখনই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবেন না।
  • আপনার পুঁজিকে পাঁচ করুন। এক ভাগ (২০%) ক্যাশ হিসেবে রাখুন। বাকী চারভাগ (৮০%) টাকা দিয়ে পৃথক পৃথক ক্যাটাগরির ফান্ডামেন্টল চার/পাঁচটি কোম্পানির শেয়ার সঠিক দামে, সঠিক সময়ে  টেকনিক্যাল বিশ্লেষণ করে সাপোর্ট লেভেলে ক্রয় করুন। কারেকশনের পরে প্রয়োজনে ক্যাশ টাকা দিয়ে কারেকশন হওয়া শেয়ারটা ক্রয় করুন। আবার লাভে উঠা শেয়ারটা বিক্রয় করে ২০% টাকা ক্যাশ করে রাখুন। পুঁজিবাজারে ক্যাপিটাল গেইন দ্রুত টেক করে নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ। মার্কেট  কারেকশন হলেও যেন আপনার বাই সক্ষমতা থাকে। গ্যাম্বেলারদের ফাঁদে পড়ে বাড়তি দামে শেয়ার ক্রয় করবেন না। শক্ত সাপোর্ট  লেভেল থেকে আপট্রেন্ডে উঠা কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে ডাইনট্রেন্ডে শুরুতেই সেল করুন।
  • কোন কোম্পানিতে বিনিয়োগের আগে সতর্কতার সাথে ঐ কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদে কারা আছে, তারা কেমন মানুষ বিষয়টি অবশ্য জেনে নিবেন।
  • শেয়ার বাজারকে কখনই আপনার আয়ের প্রধান উৎস না করা। চাকরী-ব্যবসার পাশাপাশি ২য় আয়ের মাধ্যম হিসেবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারেন।
  • মাসে মাসে আপনার ছোট ছোট সঞ্চয়গুল ধীরে ধীরে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ করুন। অনেকটা ব্যাংক ডিপিএস এর মত। সঞ্চয়ের টুল হিসেবে।
  • নিয়মিত ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেয়া, ভাল ডিভিডেন্ড ঈল্ডের কোম্পানিতে ধীর্ঘ সময়ের জন্য বিনিয়োগ করুন। মাঝে মধ্যে স্টক ডিভিডেন্ড দিলেও সমস্যা নাই কিন্তু দেখতে হবে স্টক ডিভিডেন্ডের সাথে সাথে কোম্পানির আয় (ইপিএস) বাড়ছে কীনা? প্রতি বছর উচ্চ হরে শুধুমাত্র স্টক ডিভিডেন্ড দেওয়া কোম্পানি এড়িয়ে চলুন।
  • বাজার থেকে ক্যাপিটাল গেইন অর্জন সম্ভব না হলেও ডিভিডেন্ড টার্গেট করুন। পতনশীল বাজারে ডিভিডেন্ডই আপনার মুনাফার প্রধান অবলম্বন হতে পারে। ক্যাপিটাল গেইন পাওয়ার চিন্তার আগে চিন্তা করুন আমি যে কোম্পানিতে বিনিয়োগ করছি তার আয় ও ডিভিডেন্ট বাড়বে কিনা? এগুলো না বাড়লে ক্যাপিটাল গেইন কেন হবে?  কৃত্রিমভাবে চাহিদা সৃষ্টি করে দাম অল্প সময়ে গ্যাম্বেলাররা বাড়াতে পালেও দীর্ঘমেয়াদে সে দাম থাকে না।
  • নিজে এতো কিছু বুঝতে সক্ষম না হলে ক্যাশ লভ্যাংশ প্রদান করা উচ্চ ডিভিডেন্ড ঈল্ডের মিউচুয়াল ফান্ডে, মিউচুয়াল ফান্ডটির সম্পদ মূল্যে কাছা কাছি দামে ক্রয় করুন। সম্পদ মূল্যে যত কমদামে ক্রয় করতে পারবেন তেতোটা আপনার লাভ।
  • বিষয়গুলো না বুঝা পর্যন্ত অনুগ্রহ করে পুঁজিবাজেরে বিনিয়োগ করবেন না। করলে নিজেও ক্ষতিগ্রস্থ হবে আজ অথবা কাল, সাথে সাথে পুঁজিবাজার ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

ইমেইল imranhoshen71@gmail.com

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here