ঋণ খেলাপিদের দমনে আইন সংশোধন: অর্থমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: ঋণখেলাপিদের ধরতে বেশি সক্রিয় হতে চান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ লক্ষে ঋণখেলাপিদের উচ্চ আদালতে যাওয়া ও খেলাপি ঋণ দীর্ঘদিন আটকে রাখা রুখতে কোম্পানি আইন সংশোধন করবেন। সম্প্রতি সচিবালয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

ব্যাংকিং খাতকে স্বচ্ছ ও শক্তিশালী খাতে পরিনত করতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে আলোচনায় উঠে আসে আপাতদৃষ্টিতে খেলাপি ঋণই এখানের প্রধান সমস্যা। নন-পারফর্মিং লোনের সংস্কৃতি লম্বা সময় ধরে চলে আসছে, এটি বর্তমানে ১৩ শতাংশ। এটাকে ৭ থেকে ৮ শতাংশে নামিয়ে আনতে কাজ করবে সরকার। বিদ্যমান আইনের সংস্কার করা হবে। কারণ এ আইনের কিছু ধারার কারণেই খেলাপি ঋণ যথাযথভাবে আদায় করা যাচ্ছে না।

আইন সংশোধনের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বিদ্যমান আইনে খেলাপি ঋণ আদায়ের বিষয়ে দিকনির্দেশনা রয়েছে। তবে যেকোনো প্রতিষ্ঠান উচ্চ আদালতে গিয়ে সহজেই আদায় প্রক্রিয়ার ওপর স্থগিতাদেশ নিয়ে আসতে পারছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করব, যেন ঋণ খেলাপিরা আদালতে না গিয়ে ব্যাংকারদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে খেলাপি ঋণ পরিশোধ করেন। ১৯৭২ সালে ব্যাংকিং খাত যে আইনের অধীনে পরিচালিত হয়েছে তাকে ভিত্তি ধরেই বিদ্যমান আইন সংশোধন করা হবে। তবে বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

খেলাপি ঋণ আদায়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের বিষয়ে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, সরকারি-বেসরকারি কোনো ব্যাংকের টাকাই বেহাত হোক তা চাই না। কী কারণে, কার কারণে ঋণ নেয়া টাকা বেহাত হচ্ছে তা খুঁজে বের করা হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেউ ঋণখেলাপিদের সহযোগিতা করছে কিনা, সেটিও দেখা হবে। কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিরীক্ষার মাধ্যমে ব্যাংকের টাকা বেহাত হওয়ার কারণ খুঁজে বের করবে।

সুদের হার বেশি উল্লেখ করে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, স্প্রেড (ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান) বেশি হলে আমানত ফেরত আসে না বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। বর্তমানে সুদের হার অনেক বেশি হওয়ায় বিনিয়োগ চাহিদা অনুযায়ী হচ্ছে না। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও বেসরকারি খাতকে এগিয়ে নিতে সুদের হার কমাতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here