ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্সে ঊর্ধ্বগতি

স্টাফ রিপোর্টার : আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে স্বজনদের কাছে বেশি করে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, চলতি মে মাসের প্রথম ১০ দিনে ৬১ কোটি ২১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। ফলে মাস শেষে রেমিট্যান্সে আবারও নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা দেখছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক কাজী ছাইদুর রহমান বলেন, ‘ঈদের কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে স্বজনদের কাছে বেশি করে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। এছাড়া বর্তমানে ব্যাংকে ডলারের রেট ও কার্ব মার্কেটের রেট প্রায় কাছাকাছি। যে কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন প্রবাসীরা।’

পরিসংখ্যান মতে, গত এপ্রিলে ১৪৩ কোটি ৪০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এর মধ্যে দিয়ে অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) রেমিট্যান্স দাঁড়ায় এক হাজার ৩৩০ কোটি ৩০ লাখ ডলার। যা ছিল গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি।
প্রাপ্ত তথ্যে আর দেখা যায়, গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে এক হাজার ২০৯ কোটি ২৩ লাখ ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে এসেছিল।

গত জানুয়ারিতে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছিল, ১৫৯ কোটি ৭২ লাখ ডলার। জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা বেশি করে রেমিট্যান্স পাঠানোর ফলে জানুয়ারিতে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স আসে।

তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে টাকার বিপরীতে ডলারের তেজিভাব বজায় থাকায় এবং হুন্ডি প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিদেশি দূতাবাসগুলোর কার্যকর প্রদক্ষেপ গ্রহণের ফলে খরা কাটিয়ে গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রেমিট্যান্সে সাড়ে ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা দেয়। ওই অর্থবছরে মোট এক হাজার ৪৯৮ কোটি ১৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স দেশে আসে। এর আগের অর্থবছরে (২০১৬-১৭) রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ২৭৬ কোটি ৯৪ লাখ ডলারের সমপরিমাণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত ১২ মে আন্তঃব্যাংক ডলারের দর ছিল ৮৪ দশমিক ৫০ টাকা। গত বছরের ১৩ মে এক ডলারের দর ছিল ৮৩ দশমিক ১০ টাকা। সেই হিসেবে এক বছরে ডলারের দর বেড়েছে প্রায় দেড় টাকা (১ দশমিক ৪০ টাকা)।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here