ইভেন্স টেক্সটাইলের নো ডিভিডেন্ড, বিনিয়োগকারীদের করনীয়

স্টাফ রিপোর্টার: ৩০ জুন, ২০১৮ সালের সমাপ্ত হিসাব বছরে ১ টাকা ৬ পয়সা  শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হওয়ার পরও ইভেন্স টেক্সটাইল লিমিটেড শেয়ার হোল্ডারদের জন্য ‘নো ডিভিডেন্ড ‘ঘোষণা করেছে , বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে। কিন্তু যে কাজ করলে সঠিক সমাধান হবে সেটা কেউ করছে না বা বাংলাদেশের অধিকাংশ বিনিয়োগকারী সেটা করেন না!

অাইনগতভাবে ডিএসই, বিএসইসি, আদালত কারও কিছু করার নাই ডিভিডেন্ডের ব্যাপারে , এটি সম্পূর্ণ  কোম্পানির ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বা ঘোষণা  দেওয়ার বিষয় কিন্তু  চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারগন এজিএমে। এজিএমে ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা পাশ না করতে পারলে ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যাবে না। ‘নো ডিভিডেন্ড ‘ দেওয়ার যৌক্তিক কারণ চান। যৌক্তিক কারণ না দিতে পারলে ডিভিডেন্ড দিতে শেয়ারহোল্ডারা কোম্পানির ম্যানেজমেন্টে বাধ্য করতে পারে। কোম্পানির মালিক অাপনারই (শেয়ারহোল্ডারা) নিজেদের অধিকার অাদায়ে সচেতন হতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজা-উজির মেরে লাভ নাই। অাসল জায়গায় দায়িত্ব পালন করে অধিকার বুঝে নিন। অাইন অাপনাদেরকে সাহায্য করবে।

ম্যানেজমেন্টের ঘোষণা বাতিল করতে এজিএমে ডিভিডেন্ড প্রস্তাবের বিপক্ষে না ভোট দিন, এর পরও সংখ্যা গরিষ্ঠের না ভোটর পরও কারসাজি করে, এজিএম পার্টিকে কাজে লাগিয়ে ‘নো ডিভিডেন্ড’ পাশ করে, তবেই বিনিয়োগকারী আদালতের যান। 

কিন্তু দুঃখের বিষয় অামাদের দেশের বিনিয়োগকারীরা  ফেসবুকে যতটাই সরব এজিএমে যেয়ে নিজের স্বার্থেও কথা বলতে তার থেকে বেশি নিরব। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এজিএম পার্টি নামে একদল লোক ব্যবসা খুলে বসেছে। যাদের কাজ অসৎ ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত এজিএমে পাশ করিয়ে দেওয়া। বিনিময়ে টু-পাইস ইনকাম। কোম্পানির বার্ষিক রিপোর্ট ছাপানোর ঠিকাদারি নেওয়া অথবা বার্ষিক রিপোর্ট বিনিয়োগকারীদের কাছে কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানোর ঠিকাদারি নিয়া কিন্তু দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করা।

অারোও পড়ুন: প্রতারক কোম্পানি চেনার কিছু কৌশল

পুঁজিবাজারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল টার্ম ও ব্যবহার

ডিভিডেন্ড কি? কখন কিনলে পাওয়া যায়?

আবার উল্ট চিত্রও অাছে এজিএম পার্টি নানা মুখি অত্যাচারে যেমন এজিএম অশালিন হাক-ডাক, অশালিন শব্দ ব্যবহার। এজিএমে সিন্ডিগেট করে  এজিএমে এজেন্ডা পাশ না করতে দেওয়ার হুমকি দিয়ে সৎ ম্যানেজমেন্টকে তাদেরকে টাকা দিতে বা কাজ বা বিঙ্গাপন দিতে বাধ্য করা।

এ সকল কিছুই সম্ভব হয়েছে মূলত বিনিয়োগকারীরা এজিএমে না যেয়ে কথা না বলা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার গাফিলতির কারণে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা মনে করে যারা বিনিয়োগ করেছে তাদের স্বার্থে তাদেরকে এজিএমে যেয়ে কথা বলতে হবে। বিপুল সংখ্যক বিনিয়োগকারীরা  এজিএমে গেলেই এজিএম পার্টি মাত্র  কয়েকজন  লেজ গুটিয়ে পালাবে।

ভাল শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) বা লাভে থাকলে ডিভিডেন্ড দিতেই হবে এমন আইন সারা পৃথিবীতে নাই বলেই জানি। ডিভিডেন্ড না দিয়ে যদি কোম্পানি আবার এ টাকা বিনিয়োগকরে বেশি আয় করতে পারে তবে সেটাই বেশি ভাল কিন্তু সেটা শুধুমাত্র সৎ ও যোগ্য ম্যানেজমেন্টই পারে।

তবে মিচ্যুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে মুনাফার ৭০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মনে রাখতে হবে মিচ্যুয়াল ফান্ডে কোন শেয়ারও নয়।

আলোচ্য সময়ে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ১ টাকা ৬ পয়সা এবং শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) ১৪ টাকা ৪৪ পয়সা। কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ৩০ অক্টোবর  অনুষ্ঠিত হবে। লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট আগামী ১১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডিএসইতে কোম্পানিটির সর্বশেষ বাজারমূল্য ১৫ টাকা ০০ পয়সা। গত এক বছরে ডিএসইতে এর সর্বনিম্ন দর ছিল ১৩ টাকা ৪০ পয়সা ও সর্বোচ্চ ২১ টাকা ৮০ পয়সা।

শেয়ার হোল্ডিং প্যার্টাণে কোম্পানিটি ৩৬.৬৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকের কাছে, ১৬ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ১৯.৫৩ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগকারী ০০ শতাংশ এবং বাকী ৪৩.৮০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে।

নো ডিভিডেন্ড দিলে স্পেনসাররা কিছু লভ্যাংশ পায় না সত্য তবে, বার্ষিক রিপোর্ট পেড়ে বুঝতে হবে পরিচালন ব্যয় কেমন ? বাড়ছে কিনা? বাড়লে সেলসের অবস্থা কী? সেলস না বেড়ে পরিচালন ব্যয় বাড়লে টাকা কোথায় যায় এজিএমে প্রশ্ন করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here