আইপিও অর্থ অব্যবহৃত রেখে বোনাস শেয়ার ইস্যু অযোক্তিক

স্টাফ রিপোর্টার : প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থের ব্যবহার শুরু না হতেই, স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই, বোনাস শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন বাড়াচ্ছে অনেক কোম্পানি। আইপিওর অর্থ ব্যবহার না হতেই বোনাস শেয়ারের মাধ্যমে মূলধন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা কী?

সাধারণত দেখা যায় ব্যবসায়িক কর্মক্রম বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগের জন্য কোম্পানিগুলোর মূলধনের প্রয়োজন হয়। সে কারণেই আইপিও মাধ্যমে ফান্ড সংগ্রহ করা। তবে সে ফান্ড ব্যবহারের আগেই কেন আবার বোনাস শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ফান্ড সংগ্রহ করছে? প্রশ্ন উঠেছে এসব কোম্পানির মূল উদ্দেশ্য নিয়ে।

তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো ফান্ড সংগ্রহের আরো অনেক পদ্ধতি থাকলেও শুধুমাত্র বোনাস শেয়ার ইস্যু জনপ্রিয় কেন? বোনাস শেয়ারের মাধ্যমে মূলধন বাড়ানোর হলে কোম্পানিকে কোনো ধরনের জবাবদিহি করতে হয় না, আবার নতুন করে কোম্পানির মালিকদের পকেট থেকে কোন টাকা কোম্পানিকে দিতে হয় না।

যার কারনে বোনাস শেয়ার ইস্যু জনপ্রিয়। আর ইস্যু করা বোনাস শেয়ার মার্কেটে বিক্রয় করে প্রচুর টাকা আয় করা যায় বিনা কস্টে। অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করে। বোনাস শেয়ার ইস্যুর বিষয়ে কোনো ধরনের নিয়মনীতি নেই। কোম্পানি চাইলে তার আয়ের যে কোনো অংশ বোনাস শেয়ারের মাধ্যমে মূলধন বাড়াতে পারে।

কোম্পানির সাধারণ শেয়ারহোল্ডারা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) বোনাস শেয়ার ইস্যুর বিষয়টির যৌক্তিক কারণ কোম্পানির কাছ থেকে জানতে চাইতে পারেন। যৌক্তিক কারণ না থাকলে বোনাস শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদনে ভটো দিতে পারেন। কিন্তু সেখানেও অাছে নানা সমস্যা, এজিএম পার্টির রংবাজি, দালালির প্রভাবে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারা ঠিকমত কথা বলতে পারেন না। অাবার সাধারণ শেয়ারহোল্ডারা অনেকে তাদের অধিকারের বিষয়ে সচেতন নন।

তালিকাভুক্ত কোম্পানি পুনঃগণপ্রস্তাব ইস্যু (আরপিও), রাইট শেয়ার ইস্যু, ডিবেঞ্চার  ইস্যু, বন্ড ইস্যু মাধ্যমে বাজার থেকে নতুন করে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে। কিন্তু এর প্রত্যেকটি  ইস্যু করতে কোম্পানির পারফরমেন্স দেখাতে হয় অথবা নতুন করে কোম্পানির মালিকদের পকেট থেকে টাকা কোম্পানিকে দিতে হয়।এছাড়া এসব পদ্ধতিতে মূলধন বাড়াতে হলে কোম্পানিকে আইনি পদ্ধতি পরিপালন করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানি আইনি পদ্ধতি পরিপালন করায় অযোগ্য হয়ে বোনাস শেয়ার ইস্যু করে।

অনেক ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা পরিচালকেরা কোম্পানি থেকে টাকা আউটফ্লো হতে দিতে চান না বলে বোনাস শেয়ার ইস্যুর ঘোষণা দেয়। আবার অনেক কোম্পানির নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতা থাকে না। নতুন কোম্পানি আইপিও ফান্ড ব্যবহারের সুযোগ না পেতেই লভ্যাংশ দেওয়ার সময় হওয়ায় বোনাসে ঘোষণা দেয়। আবার ট্যাক্স বেনিফিট নেওয়ার প্রয়োজন থেকেও অনেকে বোনাস দেয়।

বোনাস শেয়ারের মাধ্যমে মূলধন বাড়ানো হলে কোম্পানি থেকে কোনো ধরনের ক্যাশ আউটফ্লো হয় না। কিন্তু নগদ লভ্যাংশ দেয়া হলে ক্যাশ আউটফ্লো হয়। মূলত সমুদয় মুনাফা কোম্পানিতে রেখে দেয়ার কৌশল হিসেবে বোনাস শেয়ার ইস্যু করছে কোম্পানিগুলো। ফলে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয়, সম্পদমূল্য আগামীতে  কোম্পানির লভ্যাংশ দেয়ার সক্ষমতা কমে যায়, যদি বোনাসের অানুপাতিক হরে ব্যবসা না বাড়ে। যদি বোনাসের অানুপাতিক হরে ব্যবসা বাড়াতে পারে ম্যানেজমেন্ট তবে সেটা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করে।

সম্প্রতি আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করার পর বোনাস শেয়ার ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেমন:- কাট্টালি টেক্সটাইল, ইন্দোবাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস, এমএল ডাইং, ভিএফএস থ্রেড ডাইং, এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, ইন্ট্র্যাকো রিফুয়েলিং স্টেশন, অ্যাডভেন্ট ফার্মা ও কুইন সাউথ টেক্সটাইল মিলসসহ অন্যরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here